দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক নির্দোষ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে প্রধান সন্দেহভাজনও গুলিতে নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি দেশটির বিচারব্যবস্থা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর শহরের একটি পুকুর থেকে ১১ বা ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল।
মরদেহ উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে নেমে দোকানপাট ও রেললাইন ভাঙচুর করে। এ সময় ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।
পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি নির্দোষ ছিলেন। তিনি বলেন, “তিনিও ন্যায়বিচার পাবেন।” এ ঘটনায় পুলিশি যানবাহন ভাঙচুর ও রেললাইনে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শিশু হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন বুধবার ভোরে পুলিশের হেফাজতে গুলিতে নিহত হন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ঘটনাস্থল পুনর্গঠনের সময় ওই ব্যক্তি এক পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভারতে নারীর প্রতি সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সামাজিক সমস্যা। ২০১২ সালে দিল্লিতে এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের পর ধর্ষণবিরোধী আইন কঠোর করা হয়। তবুও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ মানবাধিকারকর্মীদের।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে ২৯ হাজার ৫৩৬টি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে অধিকারকর্মীদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, কারণ অনেক ঘটনাই অভিযোগ হিসেবে সামনে আসে না।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৫ সালের জেন্ডার গ্যাপ সূচকে নারীদের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে ১৪৮ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৩১তম।
এদিকে বারুইপুরের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ও বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস পরস্পরের বিরুদ্ধে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/